দুর্গম চরাঞ্চলে বন্যা দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিল ‘মা আমিনা ফাউন্ডেশন’


কুড়িগ্রামে তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্যার পানি। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার প্রভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই দিন কাটছে অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে।  বন্যা ও করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় এই মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মা আমিনা ফাউন্ডেশন। গতকাল ২৪ জুলাইশুক্রবার ব্রহ্মপুত্রের দুর্গম চরাঞ্চলে শতাধিক বন্যা দুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেয় সংগঠনটির সেচ্ছাসেবকেরা। প্রতি প্যাকেটে ছিল ৫ কেজি চালতিন কেজি আলুএক কেজি মসুর ডালএক কেজি লবণএক লিটার সয়াবিন তেলচিনিসাবান ও খাবার স্যালাইন।

ত্রাণ সহায়তা নিতে আসা বিলপাড়া গ্রামের মর্জিনা খাতুন বলেন'কয়দিন আগে একবার উডানে পানি আইলো। ইট্টু কইমা ফের আইহা গরের মইদ্যে ডুকলো। আবার ইট্টু কইমা এহন আবার বাড়তেছে। একমাস অইলো আমার বন্দী। একবেলা কোনোরহম খাই তো আরেক বেলা না খাইয়া থাহি।’

মা আমিনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নুর ছালমা খাতুন বলেন'এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়ায় মানুষের কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলেছে। বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের এই দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে সেসব সাহায্য সহযোগিতার খুব কমই এসে পৌঁছায়। তাই আমরা চেষ্টা করছি দুর্গম থেকে দুর্গমতম চরাঞ্চলের বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে।’

তিনি আরও বলেন, 'করোনাকালীন এই বন্যায় অনেকের পক্ষেই কোরবানি দেয়া সম্ভব হবে না। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে গোশত জুটবেনা অনেকের ভাগ্যেই। আমরা চেষ্টা করছি চরাঞ্চলের বন্যার্তদের জন্য কোরবানির ব্যবস্থা করতে।’

এসময় তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

No comments

Powered by Blogger.